নিজস্ব প্রতিবেদক :: ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট এক মধ্যরাতে ব্যাকপ্যাকওয়ালার জন্ম। জন্মের পর থেকেই গুটি গুটি পায়ে হেঁটে চলছে প্রতি মুহূর্তে। ঘুরে বেড়াচ্ছে দেশের আনাচে-কানাচে, দেশের মাটি পার হয়ে পা রাখছে বিদেশের মাটিতেও। কোথাও এতটুকু অবসর নেই। ব্যাকপ্যাকওয়ালার প্রতিষ্ঠাতা কামরুল হাসান ইমনের চোখে ব্যাকপ্যাকওয়ালা শুধু একটি গ্রুপ কিংবা ফেসবুক পেজ নয়, বরং ব্যাকপ্যাকওয়ালা হচ্ছে একটি পরিবার। যার প্রতিপাদ্য হচ্ছে, পারিবারিক আবহে বন্ধুত্বপূর্ণ ভ্রমণ।
ঠিক তাই এখানে নবীন-প্রবীণ, তরুণ-তরুণী, মধ্য বয়স্ক সবাই এক সুরে মেতে উঠে। এখানে যেমন আঠারো বছরের মানুষ রয়েছে তেমনি পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষও রয়েছে। যাদের কাছে ব্যাকপ্যাকওয়ালা হচ্ছে ঘোরাঘুরি করার এক অন্যতম বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম। যেখানে অনুভূতি মিশে যায় ভালোবাসার আবেশে। অপরিচিত একজন মধ্য বয়স্ক নারী মুহূর্তেই হয়ে উঠে ট্রিপের সেরা আন্টি, যার স্নেহে মনে হয় নিজ পরিবারের বাবা-মায়ের সাথেই আছি।
ব্যাকপ্যাকওয়ালার প্রতিটি ট্রিপ শেষে সবাই ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরেও ক্ষান্ত হয়না স্মৃতিচারণ করতে। বাসায় ফিরেই শুরু হয়ে যায় ট্রিপের মজার মজার স্মৃতি, আনন্দ, উল্লাস নিয়ে কথা বলা। প্রকৃত ভ্রমণ শেষে শুরু হয় আবার ভার্চুয়াল ভ্রমণ ব্যাকপ্যাকওয়ালার সাথে। আর তা দেখে একদম নতুন সদস্যও হয়ে উঠে প্রাণবন্ত। তাদের মনেও দোল খেলে যায় এক অন্যরকম অনুভূতি। মনের মধ্যে সুপ্ত বাসনা থাকে ঘুরে-বেড়াবার, যেতে পারেনা কোথাও একা কিংবা কারো সাথে। গ্রুপে সবার স্মৃতিচারণ দেখে সে মানুষটিও ব্যাকপ্যাক কাঁধে বেড়িয়ে পড়ার সাহস করে ব্যাকপ্যাকওয়ালার সাথে।
১২ আগস্ট ব্যাকপ্যাকওয়ালা দুই বছর অতিক্রম করে, তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করলো। এবার বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়েছে পুরান ঢাকার ইমরান হেরিটেইজে। শতবর্ষী পুরোনো এই জমিদার বাড়িতে ছিলো জমিদারী আয়োজন। যেখানে এক হয়ে মিশেছিলো নবীন-প্রবীণরা। কেক কাটাকাটি দিয়ে উদযাপন শুরু করে শেষ হয়েছে জমিদারি ভোজের মধ্যে দিয়ে।
ব্যাকপ্যাকওয়ালা শব্দটি সবার কাছে অনুভূতির মোড়কে মোড়ানো একটি শব্দ। যেখানে নতুনরা স্ক্রলিং করতে এসে মায়ার বাঁধনে আটকে যায়, একরকম ভালোলাগা তৈরি হয় তা থেকে শুরু হয় ভালোবাসা এরপর শুরু হয় ব্যাকপ্যাকওয়ালার সাথে পদযাত্রা। এই বর্ষপূর্তিতে এবার এমন একজন এসেছিলেন সুদূর মৌলভীবাজার থেকে। কখনো কোন ট্রিপে যায়নি, অথচ সবার ভালোবাসা তাকে অনুপ্রাণিত করেছে এত দূর থেকে ঢাকায় এসে কয়েকঘন্টার জন্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবার।
আর পুরনোদের কাছে ব্যাকপ্যাকওয়ালা হচ্ছে, পরিচিত মুখ, খুনসুঁটি, ভালোবাসা, বিশ্বাস আর আস্থার জায়গা। যেখানে সবাই এক হয়ে ছুঁটে বেড়ায় কখনো সাগরের নীল জলে, কখনো হারিয়ে যায়, সবুযে ঘেরা গভীর অরণ্যে। এভাবেই নতুন-পুরোতন সবাই ছুঁটে চলে ব্যাকপ্যাকওয়ালার সাথে। সপ্তাহের কর্মব্যস্ততা শেষে নিজের মানসিক প্রশান্তির জন্য কেউ কেউ ব্যাকপ্যাকওয়ালার সাথে বেরিয়ে পড়ে একদিনের ডে-ট্রিপে। নিজেকে তৈরি করে নেয় পরবর্তী সপ্তাহের জন্য।
আর ছুটির দিনগুলোতে ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে চলে যায় তিন-চারদিনের জন্য সমুদ্রের কাছে, সমুদ্রের বুকে সূর্যের ঢলে পড়া উপভোগ করে। আবার কখনো পাহাড়ের বুক থেকে জোৎস্না বিলাস করে, মনে হয় যেন চাঁদটাকে এখনই হাতের মুঠোয় নিয়ে আসবে। আর মেঘ-রাজাদের দেশে তো বারংবার হারিয়ে যায়।
বিডি প্রেসরিলিস / ১৬ আগস্ট ২০২০ /এমএম
Posted on ডিসেম্বর ১৯th, ২০২৫
Posted on নভেম্বর ২৭th, ২০২৫
Posted on অক্টোবর ১৬th, ২০২৫
Posted on আগস্ট ১৯th, ২০২৫
Posted on মে ২৮th, ২০২৫
Posted on মে ১৭th, ২০২৫
Posted on মে ১৭th, ২০২৫
Posted on মে ১৭th, ২০২৫
Posted on মে ১৫th, ২০২৫
Posted on মে ১৫th, ২০২৫