Follow us

আইসিটি সেক্টরকে অনেক ভালোবাসি: রেজওয়ানা খান


নাজমুল হক ইমন :: রেজওয়ানা খান আইসিটি সেক্টরে ছুটে চলা একজন আইকনের নাম। তিনি একজন ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, পরামর্শক এবং বিনিয়োগকারী। নিজের ব্যবসার পাশাপাশি কাজ গড়ে তুলেছেন কয়েকটি কোম্পানি। তবে তার সব কিছুই আইসিটি সেক্টরকেন্দ্রিক। কারণ এ সেক্টরে তার রয়েছে ১৬ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা। ই-গর্ভমেন্স, এন্টারপ্রাইজ, এইচআর রির্সোস এবং ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেনট প্রজেক্ট নিয়েও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে রেজওয়ানা খানের। সরকারি বেশ কিছু প্রজেক্ট, মন্ত্রণালয়, বহুজাতিক কোম্পানি, দাতাসংস্থা, বৈদেশিক কোম্পানি সঙ্গে রেজওয়ানা খানের ভালো ভালো কাজ করার অভিজ্ঞতাও আছে। তার বিশেষ দক্ষতা আছেন এন্টারপ্রাইজ লেভেল প্রজেক্ট অ্যান্ড এইচআর ডেভেলমেন্ট নিয়ে আইসিটি সেক্টরে কাজের।

নিজের কোম্পানি নিয়ে কাজ করলেও রেজওয়ানা খান আইসিটি সেক্টরে পরামর্শক হিসেবে বেশ পরিচিত। আইসিটি ডিভিশনকে তুলে ধরার জন্য বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি এবং সরকারকে সার্পোট দিয়ে চলেছেন দিনের পর দিন। তার দক্ষতা টেকনোলজি কিভাবে উন্নত করা যায়, কৌশলগত পরিকল্পনার পরামর্শ এবং বৃদ্ধি, ব্যবসার দলগঠন, ম্যানেজমেন্ট চেঞ্জ সংক্রান্ত কাজ। তিনি পরামর্শ দেন কর্পোরেট বিজনেস পর্যালোচনা বিষয়ক, ব্যবসার প্ল্যান সংক্রান্ত সার্পোটও দেন। ব্যবসার যে কোনো পরিবর্তন প্রক্রিয়ার নিরিক্ষণ ও পর্যাবেক্ষন দরকার তাও করেন। এ ছাড়াও সংস্থান এবং নেতৃত্ব, টেক নিয়ে স্টার্টআপদের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেন।

নিজের প্রতিষ্ঠানগুলোতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও কাজের সুযোগ দিয়েছেন। গড়ে তুলেছেন দক্ষ কর্মীবাহিনী। কাজের জায়গাতে তিনি কাজকেই প্রাধাণ্য দেন। তিনি বেশ কিছু সংগঠনের সঙ্গেও জড়িত। সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজও করছেন দিনের পর দিন। ঝুলিতে রয়েছে বেশ কিছু সম্মাননা।

বাবা আলী আকবর খান। স্টার কম্পিউটার সিস্টেমস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা। যাঁর হাতেই প্রতিষ্ঠিত ও জনপ্রিয় হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের যে কয়েকজন পথিকৃৎ আইটি ব্যবসায়ী ছিলেন তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। সেই বাবার দেখানো পথেই হাঁটছেন রেজওয়ানা খান। তিনি স্টার কম্পিউটার সিস্টেম লিমিটেডের সিইও। শ্রম, মেধা এবং সাহস নিয়ে এগিয়ে চলেছেন বহুমুখী কাজে। শুধু ব্যবসায়ী হিসাবে নয় স্বপ্ন দেখেন দেশের সুপার টেকনোলজি নিয়ে। স্বপ্ন দেখেন ভবিষ্যতের ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে।

স্বপ্নটা তখনই শুরু হয়েছিল যখন বাবাকে দেখতেন তথ্য প্রযুক্তিখাতে কাজ করছেন। কারণ বাবার কাছের মানুষ ছিলেন রেজওয়ানা। ইচ্ছা ছিল আর্কেটেকচারে পড়বেন কিন্তু তা হয়ে ওঠেনি। পড়াশোনাও আইসিটি সেক্টরকে কেন্দ্র করে। আর পড়ার সময়ই চিন্তা করেন ব্যবসা করবেন এবং সেটি প্রযুক্তিখাতেই (টেকনোলজি)। সেভাবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন প্রতিনিয়ত। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স (সিএসই) ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেই ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়া থেকে সফটওয়্যার সিস্টেম ডিগ্রী নিয়েছেন। সেখানকার দ্য ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ে অ্যাডভান্সড ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে উচ্চ ডিগ্রী নেন। তারপর ইউনিভার্সিটি অব সাউর্দান কুইন্সল্যান্ড থেকে ইমপাওয়ার উইম্যান থ্রট ইন্টারপ্রেনিয়ারশিপ অ্যান্ড বিজনেসে ফেলোশিপ অর্জন করেন।

বাবার প্রতিষ্ঠান থেকেই ব্যবসাতে হাতেখড়ি তার। নিজেদের প্রতিষ্ঠান হলেও ২০০২ সাল থেকে ২০০৪ সাল, দুই বছর ১ মাস প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করেন। এরপর ২০০৪ থেকে ২০০৫ সাল, ১ বছর ৪ মাস তিনি প্রতিষ্ঠানের বিজনেস অ্যান্ড সিস্টেম অ্যানালিস্ট হিসাবে কাজ করেন। এরপরই প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও পদে যুক্ত হোন। স্টার কম্পিউটার সিস্টেম লিমিটেডের সঙ্গে তার কাজের বয়স দীর্ঘ ১৬ বছর। রেজওয়ানা খানের ক্যারিয়ার জীবনের শুরু থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসা নিয়েই ছিল ধ্যান-জ্ঞান। সফটওয়্যার টেকনোলজিতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে শুরু করেন সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কনসালটিং ব্যবসা। এখন এই সেক্টরের ভালো ভালো বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়ে ছুটে চলেছেন তিনি। আর তার প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন দক্ষ কর্মী বাহিনী।

রেজওয়ানা খান বলেন, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৯৮ সালে লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয় স্টার কম্পিউটার সিস্টেমস। ২৮ বছরের বেশি সময় ধরে আইসিটি সেক্টরে কাজ করছে আমাদের কোম্পানি। আর আমাদের কোম্পানির মূল কাজ এন্টারপ্রাইজ অ্যাপ্লিকেশন ইমপ্লিমেন্টটেশন ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কনসালটিং। আমরা যেসব লেভেলের কোম্পানির কনসালটিং করি এসব প্রজেক্টের সাইজ এবং মূল্যমান কয়েক মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন ল্যাভের কোম্পানির কনসালটিং কাজ করি। পাশাপশি একটা এইচআর রিসোর্চ ডেভেলপমেন্ট সেক্টর আছে। বাংলাদেশে এটা ট্রেনিং সেক্টর হিসেবে পরিচিত। এ সেক্টর থেকে ইতোমধ্যেই ৩০ হাজারেরও বেশি ছেলে-মেয়ে আইটির বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। আমরা সাধারণত আমেরিকার বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির কাজগুলোকে বেশি প্রাধান্য দেয়। কনসালটিংয়ের জন্য একটা বড় টিম রয়েছে। কনসালটিংয়ে আমরা একদম এন্টারপ্রাইজ লেভের সল্যুশন দেয়। কোম্পানির বিজনেস প্রসেস বুঝে, বিজনেস প্রসেস রিইঞ্জিনিয়ারিং করে কীভাবে হোল সল্যুশন হবে এসব দিকগুলো গুরুত্ব দেয়। আর আমাদের কাজের একটা বিশেষ দিক হলো- যে কাজই করব যেন সেটা হয় মানসম্পন্ন। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো কাজের কোয়ালিটিকে বেশি গুরুত্ব দেয় আমরা। স্টার কম্পিউটার সিস্টেম শুধু নয়, এর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে আরো কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্টার কম্পিউটারের মতো আরো দুইটা ভেঞ্চারের কাজ আমি ইতোমধ্যেই শুরু করেছি। এর মধ্যে একটা হলো- নলেজ বেইড কোম্পানি। এখানে শুধু নলেজ লেভেলের কাজ করা হবে। অন্যটি- হাই টেকনিক্যাল অ্যাডভান্স লেভেল কোম্পানি। এটা শুধু টেকনোলজিভিত্তিক। এখানে বিশ্বের উন্নত ও সুপার টেকনোলজিগুলো নিয়ে কাজ করা হবে। দেশে ও বাইরে এগুলোর রেজিস্ট্রেশনের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমি স্বপ্ন দেখি দেশে সুপার টেকনোলজি নিয়ে। সেখানে দেশ এগিয়ে যাবে। সেই ধারাবাহিকতায় দেশের ছেলেমেয়েদের উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে হবে। যাতে তারা দেশের পাশাপাশি বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলে কাজ করতে পারে এবং সঠিক মূল্যায়ন পায়। আমি বরাবরই এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করি। দেশের ছেলেমেয়েদের উন্নত প্রশিক্ষন দিয়ে গড়ে তোলার জন্য আহ্বান করি সব সময়।

রেজওয়ানা খান জানান, বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজি (বিডব্লিউআইটি) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রেজওয়ানা খান দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে দেশের আইসিটি খাতে সফলতার সঙ্গে ব্যবসা করছেন। নানা বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে এই পর্যায়ে আসতে হয়েছে তাকে। তার মতে, তার বাধাবিপত্তির জায়গাগুলোতে যাতে অন্যদের পড়তে না হয় সে ধরনের চিন্তাভাবনা করেন সব সময়।

তিনি বলেন, আইসিটি সেক্টরকে অসম্ভব ভালোবাসি বলেই এই সেক্টরে কাজ করি। আমি মনে কি এই সেক্টর আমার পরিবার। বাবার ব্যবসা যখন শুরু করি তখনো আমাকে অনেক পরীক্ষা দিতে হয়েছে। আমাদের ব্যবসার অনেক পরিবর্তন এনেছি দিনের পর দিন। আর ছোটখাটো সমস্যা তো ছিলই সেগুলো সমাধান করতে হয়েছে। আমি মনে করি নিজেকেই নিজের অনুপ্রেরণা দিতে হবে। কারণ এগিয়ে যাবার জন্য নিজের কাজও প্রমাণ করবে নিজেকে। এরপর তো পরিবারের সার্পোটও দরকার।

সংসার জীবন সম্পর্কে তিনি বলেন, স্বামী আর এক মেয়ে নিয়ে ছোট্ট একটি সংসার আমার। আমি সব সময়ে আমার শ্বশুরবাড়ির মানুষ যেন আমাকে বোঝে, আমার কাজগুলোকে সার্পোট করে, আমার ইচ্ছা ও স্বপ্নগুলো পূরণে আমাকে শক্তি যোগাক। আমি সেটা পেয়েছি। আমি সব সময় তাদের সার্পোট পেয়েছি।

বিডিপিআর/২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ইং/ইএন


LATEST POSTS
দেশে আসুসটর পণ্য এনেছে স্টারটেক

Posted on এপ্রিল ২০th, ২০২১

দরিদ্র্য ও অসহায় মানুষের পাশে প্রিমিয়ার ব্যাংক

Posted on এপ্রিল ২০th, ২০২১

দেশে ই-স্টোর চালু করবে ভিভো

Posted on এপ্রিল ২০th, ২০২১

‘নগদ’ এ দৈনিক লেনদেন ছাড়াল ৪০০ কোটি টাকা

Posted on এপ্রিল ২০th, ২০২১

বাংলাদেশ পুলিশকে সুরক্ষা সামগ্রী দিল মেডিক্যার সেইফলাইফ

Posted on এপ্রিল ২০th, ২০২১

ওয়ালটনের নতুন ফোনের অনলাইন প্রি-বুকে ১০০০ টাকা ছাড়

Posted on এপ্রিল ২০th, ২০২১

বাবাহারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যাংকার কন্যার দাবি

Posted on এপ্রিল ২০th, ২০২১

ঈদ আয়োজন নিয়ে এসেছে ফেইসরঙ

Posted on এপ্রিল ১৯th, ২০২১

নিপুণের ঈদ আয়োজন

Posted on এপ্রিল ১৯th, ২০২১

ফ্রি হোম ডেলিভারিতে পাওয়া যাবে মটোরোলা ফোন

Posted on এপ্রিল ১৯th, ২০২১